৬৮
লোকেশন
১১১
আর্টিকেল
১২০
গ্রুপ ট্যুর
২০০০০+
গ্রুপ মেম্বার
স্থাপত্যের খোজে টাঙ্গাইল
লেখকঃ


মন থেকে চাইলেই অনেক সময় অসম্ভবও আল্লাহর রহমতে সম্ভব হয়ে উঠে, এই যেমন- পাকুল্লা জমিদার বাড়ি, আতিয়া মসজিদ, দেলদুয়ার জমিদার বাড়ি, করটিয়া জমিদার বাড়ি, ও মহেরা জমিদার বাড়ি। এতোগুলা স্থাপনা ঢাকা থেকে সকালে গিয়ে সন্ধ্যার ভিতরে ঘুরে দেখা আদৌ সম্ভব! প্ল্যান করি তখন শুধু মাথায় চিন্তা কালিয়াকৈরের চিরচেনা জ্যাম পার করে এতগুলো নিদর্শন! সাথে ছিল তিনজন ফিমেল মেম্বার সন্ধ্যার আগেই ব্যাক করতে হবে যেভাবেই হোক। এতো ভেবে-চিন্তে কি হবে আট জনের গ্রুপ একটা হায়েস কার ঠিক করে নিলাম সারাদিনের জন্য ৬০০০ টাকা দিয়ে। কারন লোকালে যদি ট্যুর করি তাহলে সময় প্লেস কভার দেওয়া সম্ভব নয়।

গাড়ির ড্রাইভার আমাদের দেওয়া টাইমেই চলে আসলো সকাল ৭ টা মিরপুর ১২ তে, এখান থেকেই জার্নি শুরু অনেক জার্নি করতে হবে সবাই মোটামুটি প্রস্তুত।সবাই তড়িঘড়ি করে গাড়িতে উঠে পড়লাম আশুলিয়া বেড়িবাঁধ হয়ে সকালের মৃদু বাতাস গায়ে মাখিয়ে গাড়ি ছুটে চলছে ১নং গন্তব্যস্থান পাকুল্লা জমিদার বাড়ির উদ্দেশ্য।মাঝপথে বিকেএসপির দিকে গাড়ি দাড় করিয়ে সবাই সকালের নাশতা সেড়ে নিলাম।

তারপর আবার গাড়িতে উঠে ঘন্টা দেড়েক এর ভিতরেই মির্জাপুর পার হয়ে আমরা পৌছে যাই পাকুল্লাতে ঢাকা টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশেই পাকুল্লা জমিদার বাড়িটি,গ্রুপের সবাইকে একটা সসময়সীমা বেধে দেই ৪০ মিনিট সময় কাটাতে পারবা ।পাকুল্লা জমিদার বাড়িটি কেমন যেন একটু ভূতুরে টাইপের যাইহোক ভূতে বিশ্বাসী কখনোই ছিলাম না আজ এখানে এসে এসব মাথায় না নিয়ে, সব প্রতিটি রুম, ইট-কাঠ থেকে শুরু করে আমরা ঘুরে ঘুরে দেখতেছি আর ভাবতেছি এই সব স্থাপত্য নিয়ে কত ইতিহাস কত কি আমাদের সেদিকে খেয়াল নেই। ভাবতে ভাবতে আমাদের সময় শেষ, আবার গাড়িতে চলে গেলাম।

এবার আমাদের গন্তব্য দেলদুয়ার জমিদার বাড়ি,গ্রামের ভিতর দিয়ে ৩০-৪০ মিনিটের ভিতরেই পৌছে গেলাম দেলদুয়ার জমিদার বাড়ির সান্নিধ্য,এই জমিদার বাড়িটি আবার দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত নয় কিন্তু আমরা আগে থেকেই অনুমতি নেওয়া ছিল,বাড়ির ভিতরে দু’জন কেয়ার টেকার ছাড়া কেউ থাকে না, গেইটে গিয়ে কেয়ার টেকার আংকেল কে পরিচয় দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করলাম, গেইট দিয়ে প্রবেশ করেই মুগ্ধ বাড়ির সামনের উঠোনের ঘাস গুলোকে যেন মনে হয়েছে গ্রীন কার্পেট আর আমাদের বরণ করার জন্যই যেন বিছিয়ে রাখা হয়ে ঘাস মাড়িয়ে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করলে কেয়ার টেকার আংকেল উনি সবকিছু ঘুরিয়ে দেখালেন সব কিছু।বাড়িটি মোটামুটি বেশ জায়গা জুড়ে অনেক টা সময় লেগেছিল ঘুরে দেখতে এই বাড়িটির সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুন প্রকৃতি।

এবার ঘন্টা খানেক সময় নিলাম এখানে তারপর গাড়িতে উঠে বসলাম গাড়ি ছুটে চলছে গ্রামের ভিতরের আঁকাবাঁকা রাস্তা ধরে, রাস্তার দু’পাশেই ফসলি জমি কৃষক রা মাঠে কাজ করছে, আমার দেশ বাংলাদেশ কৃষি নির্ভর দেশ। কৃষকরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে আমাদের আহারের জন্য কৃষকের কষ্টের ফল আমরা পেট পুরে খেয়েদেয়ে বেচে থাকি অথচ তারা না খেয়ে মরে, বিনিময়ে আমরা তাদের অবহেলা ছাড়া কিইবা করি ! বিনিময়ে আমরা তাদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করি।
তারা অর্থ-ভালোবাসা সব দিকেই বঞ্চিত!

গাড়ি থামলো ষোড়শ শতাব্দীর নির্মাণাধীন অসম্ভব সুন্দর কারুকার্য মণ্ডিত আতিয়া মসজিদের সামনে,বাংলাদেশি দশ টাকার নোটে তার দেখা পাই নিত্য কিন্তু বাস্তবে সেই আতিয়া মসজিদের সামনে দাঁড়িয়ে আছি অনুভূতি অন্য রকম, ইতিহাসের সাক্ষী হতে পারলাম আজ। ছোট একটি মসজিদ অথচ কতশত শতাব্দী চলে গেলো, এখনো ঠায় দাঁড়িয়ে আছে আমাদের প্রজন্মে।

আবার গাড়িতে চলে আসলাম এবারের পালা করটিয়া জমিদার বাড়ি ঘন্টা খানেক সময় ব্যয়ে চলে আসলাম করটিয়া জমিদার বাড়ি, প্রথমে প্রবেশ করতে গিয়ে বাধার মুখে, সাময়িক সময়ের জন্য বাড়িটিতে প্রবেশ নিষেধ কিসের জন্য বন্ধ বিস্তারিত বলতে নারাজ বাড়ির কেয়ারটেকার বলল, পড়ে বুজলাম অর্থকরি ফ্যাক্ট। তাকে ২০০-১০০ টাকা বকসিস হবে যাক তাও বাঁচা গেল যদি সত্যি সত্যি সাময়িক বন্ধ থাকত তাহলে অনেক কষ্ট পেতাম মনে মনে,তাকে ১০০ টাকা বকসিস দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করলাম এই বাড়িটির এরিয়া বেশ বড় এরিয়া ঘুরে দেখতে অনেক সময় লাগবে এদিকে সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে আমাদের আবার মহেরা জমিদার বাড়িও যেতে হবে। বাড়িতে এখনো জমিদারের বংশধরদের বসবাস আছে মূল বাড়িটির পিছনে রয়েছে একটি রোকেয়া মহল যা এখন স্কুল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বাড়ির ভিতরে রয়েছে নানা ফলফলাদি গাছ, অভদ্রের মত এসব গাছ থেকে ফল ছিঁড়ে খাওয়া নষ্ট করা থেকে বিরত থাকুন, যদি একান্তই অনেক ইচ্ছে করে খেতে দায়িত্বে থাকা লোকজন আছে তাদের থেকে কিনে খাওয়ার চেষ্টা করিয়েন।

করটিয়া জমিদার বাড়ি দর্শন শেষ গাড়িতে চলে এলাম,সবাই ক্ষুধার্ত ভাবলাম বাজার পাড় হয়ে সামনের কোথাও দোকান থেকে খাবার খেয়ে নিবো কিন্তু বেড়িয়ে যেই না ঢাকা টাঙ্গাইল মহাসড়কে উঠে মহেরার দিকে এগুচ্ছি আর কোথাও খাবারের দোকান পাচ্ছি না অনেক যায়গায় ছোট ছোট চা পানের টং দোকানের মত আছে কিন্তু খাবার হোটেল নেই ঘড়িতে ৩ টা থেকে সামান্য বেশি, এর মধ্য এক জায়গায় জিজ্ঞেস করলাম খাবার হোটেল কোথায় পাবো সে বললো ট্রেনিং সেন্টারে পাবো মহেরা জমিদার বাড়ি যদি কেউ যান আমি বলব করটিয়া থেকেই দুপুরের খাওদা দাওয়া শেষ করে আসবেন নইলে কষ্ট পাবেন ক্লান্ত একদিকে একদিকে ক্ষুধা বেশ কষ্টকর। যাই হোক সাড়ে তিনটার ভিতরে মহেড়া জমিদার বাড়ি পৌছে যাই সেখানে একটা চাইনিজ রেস্টুরেন্ট আছে ,বাঙালি খাবার নাই ।বিভিন্ন দামে সেট মেন্যু আছে,সেখান থেকে খাবার অর্ডার করে খেয়ে,তড়িঘড়ি খেয়ে ভিতরে প্রবেশ করলাম,এখানে আবার প্রবেশ মূল্য জনপ্রতি।

বাংলার হোয়াইট হাউস বলে মহেরা জমিদার বাড়িকে সুবিশাল এরিয়া জুড়ে রয়েছে বেশ কয়েকটি ভবন একটি পিকনিক স্পট,একটু মিনি শিশুপার্ক,একটি মিনি চিড়িয়াখানা সুন্দর ভাবে সাজিয়ে গুছিয়ে রেখেছে বাড়িটি,
এই বাড়িটি পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আছে বহুদিন ধরে।
পুলিশ সিকিউরিটি দেওয়া সর্বত্র, তাদের আদেশ নিষেধ মেনে চলুন।

বিকেল ৫ টা গড়িয়ে গাড়ি এগুচ্ছে ব্যস্ত নগরীর উদ্দেশ্যে রাত ৮ নাগাদ আমরা পৌছে যাই ঢাকাতে।
গাড়ির ড্রাইভার কে চুক্তির ৬০০০ টাকার সাথে ৫০০ টাকা বকসিস দিলাম,
সবাই দুপুরের খাবার সকালের নাশতা, যাত্রাবিরতিতে চা নাশতা সহ জনপ্রতি আমাদের খরচ ১৪০০ সামথিং।

জয়েন গ্রুপ- ছুটি ট্রাভেল গ্রুপ