৬৮
লোকেশন
১১১
আর্টিকেল
১২০
গ্রুপ ট্যুর
২০০০০+
গ্রুপ মেম্বার
একদিনে যশোর ভ্রমন
লেখকঃ


প্লাস্টিকের ড্রামের উপর ঝাঁপা বাওড়ের ভাসমান সেতু, যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলার অন্তর্গত ঝাঁপা গ্রামের মানুষদের যশোর আসতে হলে ঝাঁপা বাওড় পাড়ি দিয়ে আসতে হয়, যা একটু কষ্টসাধ্য। অত:পর ঝাঁপার তরুণদের সম্পূর্ণ নিজেদের চমৎকার উদ্যোগে কয়েকশ প্লাস্টিকের ড্রামের উপর নির্মাণ করা হয় এ ভাসমান সেতু। এ সেতু দেখতে আপনাকে ৫/- টোল/টিকেট নিতে হবে।

মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের বাড়ি, জাদুঘর, মধুপল্লী, কপোতাক্ষ নদ

মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার অন্তর্গত সাগরদাঁড়ি গ্রামে এ বাড়িতেই ১৮২৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন। এ স্থানটি এখন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অন্তর্গত হওয়ায় একে এখন ‘মধুপল্লী’ বলা হয়। এখানে রয়েছে মহাকবির বসতবাড়ি, পৈতৃক কাছারী ভবন, কবির ভাস্কর্য, পারিবারিক পুকুর, কবির কাকার বাড়ি, পারিবারিক মন্দির এবং কবির ব্যবহৃত কিছু জিনিসপত্রাদি নিয়ে একটি জাদুঘর। জাদুঘরে আমি ঢুকতে পারিনি কারণ জানুয়ারিতে কবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত ‘মধুমেলা’ ব্যতীত বছরের অন্য সময় এটি দুপুর দেড়টার আগে খোলা হয়না।

মধুপল্লীতে ঢুকতে আপনাকে ১৫/- দিয়ে একটি টিকেট কাটতে হবে। বের হয়ে হাতের ডানে কিছুদূর হেঁটে গেলেই পাবেন মধু উদ্যান। মধু উদ্যানের বাইরেই কবির একটি বড় ভাস্কর্য রয়েছে। মধু উদ্যানের সাথেই মহাকবি মাইকেলের অসংখ্য স্মৃতি-বিজড়িত সেই কপোতাক্ষ নদ। এ নদকে নিয়ে কবির একটি কবিতাই আছে ‘কপোতাক্ষ নদ’ নামে। এছাড়াও বিদেশে বসে বিভিন্ন সময়ে তাঁর বিভিন্ন লেখায় তিনি এ নদের কথা উল্লেখ করেন।

হাজী মুহম্মদ মুহসীনের ইমামবাড়া ছবি তুলতে ভুলে গিয়েছি , ঐতিহাসিক এ ইমামবাড়া তৈরি করেন দানবীর হাজী মুহম্মদ মুহসীনের বোন মুন্নুজান। যশোরের মুড়ালিতে এই স্থাপনা।

যশোরের বিখ্যাত ধর্মতলার চা

এই চা খেতে আপনাকে যশোর শহরের দড়াটানা মোড় বা জজকোর্ট মোড় থেকে ইজি বাইক অথবা অটোরিকশা নিয়ে আসতে হবে ধর্মতলা। এই চায়ের তৈরী করার কৌশল ও টেস্ট সম্পূর্ণ ভিন্ন বলেই এর এতটা খ্যাতি। দাম: ২০/-

যশোরের অনন্য চুইঝাল রসুন খাসি

সময়স্বল্পতার জন্যে চুকনগরের বিখ্যাত চুইঝাল খেতে যেতে পারিনি। কিন্তু, ‘দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাতে’ যশোর চিত্রার মোড়ে হোটেল মদিনায় ‘চুইঝাল রসুন খাসি’ খাই। এটিই আমার কাছে অসাধারণ লেগেছে। এক বাটিতে এক পিস খাসির টুকরো, দুটো আস্তো রসুন ও ঝোল দেয়। চমৎকার স্বাদ!!!

এছাড়া যশোর আসলে আপনি গদখালী ফুলের আড়ৎ ও বাগান, ভরত রাজার দেউল, মীর্জানগরের হাম্মামখানা, চাঁচড়া জমিদার বাড়ি ও শিব মন্দির, বেনাপোল বর্ডার, যশোর বোট ক্লাব, বিমানবন্দর ইত্যাদি জায়গা দেখতে পারেন। খাবারের মধ্যে খই, জামতলার সাদেকের মিষ্টি, শীতে খেজুরের রস-গুড় ইত্যাদি ট্রাই করবেন।

এবার যশোর নিয়ে কিছু কথা। যশোরে ট্রান্সপোর্টেশন সিস্টেম তেমন ভাল নয়। উপরের এই দর্শনীয় জায়গাগুলোতে আপনি কিভাবে যাবেন তার সঠিক দিক-নির্দেশনা শহরের মানুষ, অটোচালক, রিকশাচালক কেউই সঠিক দিতে পারেনা। এমনকি কোথাও ভালমতো দেখিও নি। অনেক জায়গা অনেকে চিনেই না। কেউ বলবে বাসে যেতে, কেউ বলবে গাড়ি রিজার্ভ করতে ইত্যাদি ইত্যাদি। আমি শেষে Google Maps এর উপর ভরসে করতে বাধ্য হই এবং সৌভাগ্যবশত এই সবগুলো জায়গাই Map এ আছে। সঠিক নির্দেশনা না পাওয়াতে আমি এক পর্যায়ে গিয়ে মোটরসাইকেল ভাড়া নিই। এজন্য আপনার ইজিবাইকে ২০/- দিয়ে আসতে হবে পুলেরহাট।

আমি প্রথমে পুলেরহাট-ঝাঁপা বাওড়-সাগরদাঁড়ি-গদখালি-পুলেরহাট মোটরসাইকেল ভাড়া করি ৭০০/- দিয়ে। কিন্তু উল্লেখ্য, ঝাঁপা আর সাগরদাঁড়ি একই রুটে আর গদখালি অন্য রুটে। ঝাঁপা-সাগরদাঁড়ি থেকে আবার শহরের দিকে আসতেই রাস্তার অবস্থা দেখে আমি অতিষ্ঠ হয়ে পড়ি। যদিও শহর পেরোলেই রাস্তা ভাল আর রাস্তার দুপাশের ভিউ চমৎকার, কিন্তু শহরে ঢুকতে নিলেই অবস্থা শেষ। আরও তারপর জানতে পারি যে গদখালির রাস্তা নাকি আরও খারাপ। তাই, পরে শহর এসে আমি ড্রাইভারকে বলি ১০০/- কমে ৬০০/- নিয়ে আমাকে মুড়ালীর ইমামবাড়া দেখিয়ে আনতে এবং সে রাজি হয়।

সার-সংক্ষেপ:

ঢাকা-যশোর (বাস/ট্রেন/এয়ার);
যেখানেই নামুন, অটোতে পুলেরহাট এসে মোটরসাইকেল ভাড়া করতে পারবেন; আমি যার মোটরসাইকেল ভাড়া করি তার নাম মো: সফিকুল ইসলাম (ফোন: ‭01983125473‬);
কোথায়, কি খাবেন আপনার উপর, হোটেল ভালমন্দ সব জায়গায়ই আছে।

জয়েন গ্রুপ- ছুটি ট্রাভেল গ্রুপ