৬৮
লোকেশন
১১১
আর্টিকেল
১২০
গ্রুপ ট্যুর
২০০০০+
গ্রুপ মেম্বার
থান্ডার ড্রাগনের দেশ ভুটান ভ্রমণ
লেখকঃ


ভুটান শান্ত এবং পরিচ্ছন্ন একটি দেশ।ভুটান কে পৃথিবীর হিডেন কান্ট্রি বলে।ভুটানের সৌন্দর্য এখনও মানুষের কাছে পৌছায়নি।আমি ভুটানের ইতিহাসের দিকে যাব না।অনেকেই ভুটান দেশ নিয়ে অনেক জানে।আমি ২০১৬ সালে ভুটান ট্যুর করি বাই রোড ইন্ডিয়া দিয়ে।সে গল্পই করবো আজ আপনাদের সকলের সাথে।ভ্রমন পাগল মানুষ আমি।ট্যুর দিতে ভালবাসি।ভুল কিছু হলে ক্ষমা করবেন।

ভুটান বাই রোড ট্যুর

ভুটান যদি বাই রোড যেতে চান তবে অবশ্যই আপনাকে ইন্ডিয়ার ট্রানজিট ভিসা নিতে হবে।ইন্ডিয়ার উপর দিয়ে আমাদের বাংলাদেশিদের ভুটান যেতে হবে।ট্রানজিট ভিসা কোন সমস্যা নয়।আমরা ট্যুরিস্ট ভিসা করতে যে সব কাগজপএ জমা দেই ইন্ডিয়ান এম্বাসিতে! তাই দেয়া লাগে।এখানে শুধু বাসের রিটার্ন টিকেট জমা দেয়া লাগবে পাসপোর্টের সাথে।এবং হোটেল বুকিং। ইন্ডিয়ান এম্বাসি শুধু জমা নেবে ট্রানজিট ভিসার এপ্লিকেশান।৮৪০ টাকা ভিসা ফি।পোর্ট চেংরাবান্ধা–বুড়িমারী।ভুটান বাই এয়ারেও যাওয়া যায়।তবে আমি বলবো বাই রোড একজন মেয়ে একা যাওয়াও সমস্যা নয়।ভিসা, পাচঁ ছয় দিনের ছুটি,হাতে টাকা, একটা ট্যুর প্ল্যান ব্যস,আর কিছু প্রয়োজন নাই।ভুটান ট্যুর অনেক সহজ এবং অনেক নিরাপদ।কম খরচ।আমার পাচঁ দিনের ট্যুর ছিল।

ভুটান ট্যুর প্ল্যান

আমি ভুটানের যাব, এজন্য সময় উপযোগি, ছুটি থাকবে সেই হিসেবে অক্টেবর মাসে ঠিক করলাম।বেস্ট সময় মার্চ থেকে মে। সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর।সেপ্টেম্বর মাসে ভুটানে আপেল হয়।ওখানে প্রচুর আপেলের বাগান।আপেল সহ বাগান খুব ভাল লাগে দেখতে। দেখতে চাইলে আপনাকে আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে যেতে হবে।জুন জুলাই রেইনি সিজন,তখন যাওয়া মানে বৃস্টিতে আটকাপড়া! তবে পাহাড় মানেই বৃস্টি।মনে রাখবেন।তাই ভুটান ট্যুর ছাতা, রেইন কোট মাস্ট।আর একটা ব্যপার যদি চারজন যান তবে একটা বাজেট।৭-৮ জন একটা বাজেট।চার জনের গাড়ী। না হলে ৭-৮ জনের জন্য জিপ।

আমি পূজার বন্ধ ঠিক করলাম যাব।বাই রোড।ইন্ডিয়ার ট্রানজিট ভিসা নিলাম।বাসের টিকেট কাটলাম,রিটার্ন সহ।৭-১০-১৬ তারিখ আমার যাওয়ার ডেট।শ্যামলি পরিবহন ১৫০০ টাকা ভাড়া যাওয়ার,একজন।রাতে ঢাকা থেকে বাস ছাড়ে।রাত ১০ টায়।সকাল ভোরে ৬টার আগেই লালমনিরহাট হয়ে বুড়িমারি।সকাল ৯ টায় ইমিগ্রেশান অফিস খুলে ওই পর্যন্ত বিশ্রাম।৯ টার পর ইমিগ্রেশানের কাজ।শ্যামলি পরিবহনে গেলে ওরাই সব করে দিবে।এরপর ওপারে হেটে চেংরাবান্ধা ইন্ডিয়ান পোর্ট।ওখানেও সময় লাগে না।পাসপোর্ট জমা দিয়ে লাইনে ১০ মি. দাড়ালে সব কাজ শেষ।শ্যামলির লোক হলে নো টেনশান।এরপর ওখানে ছোট ছোট দোকান।মানি এক্সচেন্জ,খাওয়ার হোটেল।টাকা, ডলার ভাঙ্গায়ে নিবেন।টাকা এখানে ছাড়া আর কোথাও ভাঙ্গাতে পারবেন না।তাই সব ভাঙ্গায়ে সাথের কোন হোটেলে নাস্তা সেরে নেবেন।এরপর গাড়ী ঠিক করে নেবেন।

চেংরাবান্ধা থেকে জয়গাঁ (ইন্ডিয়ার বর্ডার)হয়ে ভুটানের বর্ডার ফুন্টসোলিং পর্যন্ত।চারজন হলে ছোট ট্যাক্সি।এর ভাড়া ১২০০-১৫০০ রুপি। ৭-৮ জন হলে বড় জিপ।এর ভাড়া ১৮০০-২২০০ রুপি।তবে দরদাম করে নিবেন।জয়গাঁ পৌছাতে ৪-৫ ঘন্টা লাগে।এরপর ১০ মি. টে ভুটান গেট।ফুন্টসোলিং।জয়গাঁ এক্সিট সিল নিয়ে হেটেও যাওয়া যায় ভুটান গেট।গেট দিয়ে ঢুকলেই ভুটান ইমিগ্রেশান অফিস।এখানে এন্ট্রি সিল নিতে হবে।ভিসা নিতে হবে।একটা ফর্ম পুরন,ছবি এন পাসপোর্টের ফটোকপি জমা দিতে হবে।এখন হোটেল বুকিং পেপার জমা দিতে হয়।ব্যাস হয়ে গেল।তখন সময় বিকাল ৫-৬ বেজে যাবে।রাতটা ফুন্টসোলিং থেকে যেতে পারেন।আমি থেকে গিয়ে ছিলাম।হোটেল পার্ল।ভাড়া বড় রুম ১৬০০ রুপি।চারজন থাকা যায় এক রুমে।হোটেলে উঠে ফ্রেস হয়ে খাবার খেয়ে কিছুক্ষন ভুটান বর্ডার শহর ফুন্টসোলিং ঘোরাঘুরি।সন্ধায় হোটেল।রাতে খেয়ে ঘুম।

ফুন্টসোলিং-১মদিন-৮-১০-১৬ ইং

সকাল বেলা উঠেই জিপ করলাম।আমরা পাচঁজন ছিলাম।চারজনের বেশি হলেই জিপ নিতে হবে।সাথে কাউকে নিলাম না।বর্ডারে অনেক লোক থাকে যাওয়ার।তবে আমরা কাউকে নেইনাই।জিপ ঠিক করলাম ট্যাক্সি স্ট্যান্ড থেকে।থিম্পু পর্যন্ত।৫-৬ ঘন্টা জার্নি।ভাড়া বড় জিপ ২০০০-২৫০০ রুপি।ভাল ভাবে দরদাম করে নেবেন।একটু তাড়াতাড়ি যেতে হবে।পুনাখার জন্য পারমিশান নিতে হবে থিম্পু ইমিগ্রেশান অফিস থেকে।পাহাড়ী রাস্তা।আকাঁ বাকাঁ পথ পেরিয়ে যেতে হবে।যেতে যেতেই মন ভাল হয়ে যাবে।উপরে উঠছি তো উঠছি!! যদি প্রথম পাহাড়ে যান,তবে ভয় কিছু টা লাগতে পারে।আমি এর আগে দার্জিলিং গিয়েছি তাই এতটা ভয় লাগেনি।পাহাড়ের সৌন্দর্যের কাছে এই ভয় কিছুই নয়।ভুটানের সবুজ পাহাড় এবং পরিস্কার রাস্তা ঘাট এ আমি মুগ্ধ।সাথে শুকনা কিছু খাবার রাখবেন।পাহাড়ে হোটেল কম।পথে নেমে একটা হোটেলে দুপুরের খাবার খেলাম।কিছু ছবি তোলা হলো।এরপর থিম্পু শহর।প্রথমেই পুনাখার জন্য পারমিশান নিলাম।এরপর হোটেল খুজে উঠি।ফ্রেস হয়ে আসে পাশে দোকানপাট ঘুরে দেখলাম।খেয়ে রাতে ঘুম।

পুনাখা ২য়দিন ৯-১০-১৬ ইং

আমরা জিপ ড্রাইভার কেংছো কে একবারে ঠিক করে ফেলেছিলাম।সে আমাদের পুরা ট্যুর করাবে।আজ আমরা সকাল সকাল পুনাখার জন্য বের হলাম।যাওয়ার পথে দোচুলা পাস,অনেক সুন্দর।এখানে স্মৃতিসৌদ।সমাধি আছে ১০০ এর উপরে।ঘুরে বেড়াতে ভাল লাগবে।ছবি তুলতে তুলতে মেঘ এসে ভরে গেল।মন চায় বসে থাকি আরও কিছু সময়!! তবে সময় নাই।এরপর পুনাখা জং।পাচু মাচু নদী পার হয়ে পুনাখা শহর।পুনাখার জং ভুটানের বিবাহ স্থান।এখানে এসে সবাই বিয়ে করে।অনেকে বিয়ে করে আসে পূজা দিতে।বিশাল ইমারত।ঘুরতে ঘুরতে কেংছোর কাছে অনেক কিছু শুনলাম এই জং নিয়ে।তবে ঘুরতে ঘুরতে এত মুগ্ধ যে,সব কথা ভুলে গেছি।ইতিহাস মাথায় ঢুকে না।বিকালেই রওনা দিলাম।থিম্পু বেক করবো।পুনাখা থাকার প্রয়োজন নাই।থিম্পু থেকে পুনাখা যেতে ৪-৫ ঘন্টা লাগে।থিম্পু মার্কেট ঘুরে রাতে হোটেল।

থিম্পু ৩য়দিন, ১০-১০-১৬ ইং

থিম্পু জং,চার্টান,চিড়িয়াখানা,রাজার বাড়ী,বড় বুদ্ধিস্ট বুদ্ধা,তলয়ার খেলার জায়গা।এসব ঘুরে ওই দিনই পারো চলে আসলাম।১.৩০-২ ঘন্টা লাগে থিম্পু থেকে পারো।থিম্পুতে আমরা যে হোটেলে ছিলাম নামটা মনে নাই।তবে পিক আছে।অনেক হোটেল।কম দামে বা দামি সব ধরনের হোটেল পেয়ে যাবেন।

পুনাখা ৪র্থদিন,১১-১০-১৬ ইং

পারোতে বৃস্টি পেলাম।পারো জং এন পারো মিউজিয়াম।মিউজিয়াম ঘুরতে অনেক ভাল লাগলো।পারো তে আরেকটি জায়গা টাইগার নেস্ট।আমরা যেতে পারি নাই।আরও একদিন থাকতে হবে পারো।আমাদের রিটার্ন টিকেট করা।তাই সেদিন ই চলে আসলাম শিলিগুড়ি।মাঝে ফুন্টসোলিং এ সিল নিলাম।জয়গাঁ সিল নিলাম।এরপর ওখান থেকে আবার গাড়ী ঠিক করলাম।জয়গাঁ থেকে শিলিগুড়ি।৬-৭ ঘন্টা লেগে গেল।বৃস্টি হচ্ছে তো হচ্ছে।শিলিগুড়ি এসে হোটেল সেন্টার প্লাজা।শ্যামলি কাউন্টারের উপরে।

আজ লাস্ট দিন।আমরা বের হইছি।বিধান মার্কেট।এন বিগ বাজার।কেনা কাটা করে বাস ধরতে হবে।দুপুর ১.৩০ টায় বাস।কিছু শপিং করলাম।দুপুরে খেয়ে বাস এ উঠে বসলাম।এরপর সারা রাত জার্নি।সকালে ঢাকা নামলাম।
এই হলো ট্যুর।পাচঁ দিনের ট্যুর।একজনের খরচ ১৫০০০-১৬০০০ টাকা।ড্রাইভারকে আমরা পাচ দিনের জন্য ১১০০০ টাকা দিয়েছিলাম।৭-৮ জন হলে খরচ আরও কম হবে।

কিছু তথ্য –

ভুটানে শপিং করার তেমন কিছু নাই।তাই শপিং টেনশান ফ্রি থাকুন।ভুটানের ওয়েদার বৃস্টি বহুল।যখন তখন বৃস্টি।এই এলো,এই চলে গেল।ছাতা, রেইন কোট সাথে মাস্ট।ভুটানের পাহাড়ী রাস্তা।তবে শহর গুলা সমতলে।রাস্তায় হোটেল কম।খাবার সাথে রাখবেন।ভুটান এ খাবার দামি।তবে মজা না।একটা মরিচের ভর্তা দেয়,ইমা ডালসি।মজাই।ডিম ভাজি একটা ৬০ রুপি।আলু ভর্তা এক বাটি ৮০ রুপি।ইন্ডিয়ান হোটেলে খাবেন। ভুটানে দরদাম চলে।হোটেলে রুম নিতে,গাড়ী ভাড়ায় সব কিছুতে।দামাদামি করে নিবেন।ভুটানিরা খুবই শান্ত এন ভদ্র প্রকৃতির মানুষ।আপনিও তাদের সাথে তেমন ব্যবহার করুন। ভুটানের মতো পরিস্কার জায়গা আমি আর দেখি নাই।এত ঘুরছি।সব থেকে সুন্দর ভুটান। ভুটান নিট এন ক্লিন।আপনিও পরিস্কার রাখতে চেস্টা করুন।ময়লা যথাস্থানে ফেলুন। সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।কস্ট করে আমার ট্যুর পড়ার জন্য।কারো যদি কাজে আসে তবে খুব খুশি হবো।

জয়েন গ্রুপ- ছুটি ট্রাভেল গ্রুপ