৬৮
লোকেশন
১১১
আর্টিকেল
১২০
গ্রুপ ট্যুর
২০০০০+
গ্রুপ মেম্বার
বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকার
লেখকঃ


আপনি যদি মাছ ধরতে ভালবাসেন, সদ্য ধরা তাজা মাছ সমুদ্রে মাঝে রান্না করে খেতে চান তাহলে এই পোস্ট আপনার জন্য, আমাদের বঙ্গোপসাগর কিন্তু মাছ ধরার জন্য আদর্শ জায়গা। মাছ ধরার পাশা পাশি মাথা নষ্ট করা অপূর্ব সূর্যাস্ত দেখতে পারবেন এখানে, পিন পতন নীরবতার মাঝে ঢেউ এর ছলাত ছলাত শব্দ, একই সাথে নৌকার এক পাশে গাড় নীল পানিতে সোনালি ঢেউ আর অপর পাশে চাঁদের আলোয় রুপালি ঢেউ দেখতে পাবেন। সূর্যের শেষ আলোটা মাঝ সমুদ্র থেকে দেখার অনুভূতি অন্য লেভেলের, যা ছবিতে বা কথায় প্রকাশ করার নয়।আর সাঁতার পারলে তো কথাই নেই, কাঁচের মত স্বচ্ছ পানিতে সাঁতার কেটে আসতে পারবেন। ফেরত আসার সময় দেখবেন ঘুট ঘুটে অন্ধকারে চাঁদের আলোটা ফ্লাড লাইট এর মত চোখে লাগছে।

শখের মাছ শিকারিরা যারা টিকেট কেটে পুকুরে বা লেকে মাছ ধরেন অথবা যারা কখনো মাছই ধরেনি তাড়াও মাছ ধরতে গভীর সাগরে যেতে পারেন। পুকুর নদীতে মাছ ধরা আর সমুদ্রে মাছ ধরা একটু আলাদা, আমার মনে হয়েছে সমুদ্রের মাছ গুলো গাধা টাইপ, এর কারণ হল, পুকুর বা লেকে মাছ টোপ খেয়ে টানতে থাকে অথবা ঠোকর দিলে সুতায় টান লাগে এর থেকে বোঝা যায় মাছে বড়শি গেঁথেছে/সুতা টানলে বড়শি গাঁথবে কিন্তু সমুদ্রের মাছ টোপ খেয়ে চুপ চাপ সেখানেই বসে থাকে! আর ঢেউ এর কারণে মাছ টোপ খাচ্ছে কিনা সহজে বোঝা যায়না, তাই সমুদ্রে মাছ ধরাটা একটু কঠিন, আয়ত্ত করতে একটু সময় লাগে।

আমরা ঢাকা থেক ছিপ বড়শি নিয়ে গিয়েছিলাম কিন্তু ছিপ নিয়ে বসলে মাছ খাচ্ছে কিনা একেবারেই বোঝা যায়না। সেন্টমারটিনের মানুষ ছিপ ছাড়া শুধু সুতা দিয়ে পানিতে টোপ ফালায় তারপর সুতা ধরে বসে থাকে, এতে মাছ খেলো কিনা সহজে বোঝা যায়। পাড় থেকে অথবা জেটিতে বসেও আপনি মাছ ধরতে পারবেন। টোপ হিসাবে আপনার লাগবে চাপিলা মাছ।৫-৬ জনের মাছ ধরার জন্য বাজার থেকে ৫০-১০০ টাকার মাছ কিনে নিলেই চলবে। প্রতিদিন বিকাল ৪ টার পর থেকে অনেক নৌকা মাছ ধরার উদ্দেশে সমুদ্রের দিকে রওনা দেয়, তাদের যেকোনোটার সাথে কথা বলে তাদের সঙ্গে যেতে পারেন এতে খরচ অনেক কম লাগবে আর সেইফটির জন্য আগের পরিচিত বা নিজেদের হোটেল থেকে কথা বলে নৌকা ঠিক করে নিতে পারেন। নৌকা, মাছ ধরারই হতে হবে অন্য নৌকা ঢেউয়ে দুলবে বেশি। সেন্টমারটিন অথবা কক্সবাজার, দুই জায়গা থেকেই মাছ ধরতে যেতে পারবেন। আমরা নৌকা ঠিক করেছিলাম খুব অল্প টাকায় ২০০ টাকার তেল + ১০০ টাকার মাছ(টোপ) + ৩০০ নগদ। বিকাল ৪ টায় রওনা দিয়ে ফেরত এসছিলাম রাত ১০ টার দিকে, এভাবে দুই দিন। বেশি দুরে যেতে না চাইলে দীপ থেকে একটু দুরে গিয়েয়ও মাছ ধরতে পারবেন। তবে মাছ বেশি পাবেন দুরে গেলে।

আপনি যদি আরও কয়েক লেভেল উপড়ের ট্রাভেলের হয়ে থাকেন তাহলে যেতে পারেন সারা রাতের জন্য। রাতে মাঝিরা জাল দিয়ে মাছ ধরতে যায় । আপনারা যদি নৌকাতেই রান্না করে খেতে চান তাহলে আগে থেকে মাঝিদের সাথে আলাপ করে রাখবেন, সাধারণত ওদের নৌকাতেই চুলা থাকে আর ওড়াই আপনাকে রান্না করে খাবাবে । যাবার আগে অবশ্যই শুকনো খাবার ,পানি সাথে নিয়ে যেতে হবে। প্রয়োজন মনে করলে সাথে লাইফ জ্যাকেটও নিয়ে যেতে পারেন।

আপনি সমুদ্রে কোরাল, টুনা, চাঁদা, পোয়া, ভেটকি আর গ্রুপার মাছ খুব সহজেই ধরতে পারবেন। তবে কোরাল আর ভেটকি টাই বেশি ধরা পরে। টুরিস্টরা সাধারনত মাছ ধরতে যায়না সেন্টমারটিনে, আমরা গিয়ে পুরো দীপের আলোচনার কেন্দ্রবিনূ ছিলাম কয়দিনে জন্য। সবাই এসে জিজ্ঞেস করতো, কোথায় গেলাম, কি মাছ পেলাম। একজন এসে বলল আমাদের ২য় দিনের স্পটে গিয়ে উনি একটা ৩০ কেজি কোরাল পেয়েছেন। এদিকে বড় মাছ ধরার পদ্ধতি টা অন্য রকম, মাঝিদের কাছে প্লাস্টিকের মাছ আছে ৩ মাথা ওয়ালা বড়শি লাগানো, ওইটা পানিতে ফেলে নৌকা চালিয়ে যেতে থাকলে বড় মাছ ধরা পরে।

জয়েন গ্রুপ- ছুটি ট্রাভেল গ্রুপ